বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত স্থান। এ দেশে যারা বিনিয়োগ করেছেন সবাই সফল হয়েছেন। ‘ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট-বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে গতকাল বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
এ সময় বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে কেমন পরিবেশ বিরাজ করছে জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ উপযুক্ত স্থান। এ দেশের মানুষ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। এখানে বিনিয়োগ করলে পারস্পরিক লাভ হয়। দেশের মানুষের কর্মসংস্থানসহ নানাভাবে আমরা লাভবান হই। বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হবে। কেননা যারাই আগে বিনিয়োগ করেছে সবারই রেকর্ড সফল হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে ব্যবসায় এখনো চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া, গ্রাসরুট লেভেলে পুরনো রীতি, নতুন ট্যারিফ বাস্তবায়ন ও প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি।
এ বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে কিছুটা সংকট রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। আমাদেরকে এলএনজি আমদানি করতে হয়। লাইনের মাধ্যমে সবাইকে গ্যাস দিতে পারি না। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। আশা করছি বছর দুয়েকের মধ্যে এ সমস্যা একেবারেই থাকবে না।’
বাংলাদেশের বিমানবন্দরে বিদেশীদের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘বিমানবন্দরে নিউ টার্মিনাল চালু হচ্ছে। যাত্রীদের বিশ্বমানের সেবা দিতে আমরা কাজ করছি।’
ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্টে কার্গো ভিলেজ তৈরির কাজ চলছে। সরকার পরিবহন খরচ ও সময় কমিয়ে আনতে কাজ করছে। ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে কার্গো ফ্লাইট চলছে। প্রয়োজনে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকেও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।’ এসব ফ্লাইট যথাসময়ে পরিচালনা ও পণ্য ওঠানোর জন্য নতুন যন্ত্র যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংস্কারের বিষয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাণিজ্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির কাজও চলছে।’
অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন অর্থনৈতিক খাতে নানা সমস্যা ছিল। ধীরে ধীরে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর প্রতি মাসেই এটি কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, এটি অবশ্যই ইতিবাচক।’
এ সময়ে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে জানিয়ে বিডার চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশে ৪৯ কোটি ডলার বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে। যেটি ২০২৩ সালের একই সময়ের চেয়ে ২৯ শতাংশ বেশি। ওই সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ছিল মাত্র ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।’